Home

এটিএম মেশিনে জাল বা ছেঁড়া নোট বের হলে তার সমাধান

তথ্যপ্রযুক্তির এই রমরমা দিনে ব্যাংকের প্রায় সকল লেনদেনই ইন্টারনেটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যাংকিং সার্ভিসের জনপ্রিয় খাত হলো কার্ডের মাধ্যমে ব্যাংকের শাখায় না গিয়েই টাকা উত্তোলন করা। ব্যাংক থেকে একাউন্টধারী গ্রাহকদেরকে এটিএম (Automatic teller machine) কার্ড প্রদান করা হয়। গ্রাহক কার্ডটি এটিএম মেশিনের নির্ধারিত স্থানে প্রবেশ করিয়ে গোপন নম্বর এবং টাকার অংক দিয়ে কমান্ড দিলেই ক্যাশ টাকা বের হয়ে আসে। এটিএম কার্ডের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করলে ব্যাংকের শাখায় সশরীরে হাজির হয়ে ভিড় করতে হয় না- ভোগান্তি কম থাকার কারণে এই পদ্ধতি জনপ্রিয় হচ্ছে। ব্যাংকগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, তাদের নগদ লেনদেনের বড় অংশই এখন এটিএমের মাধ্যমে হচ্ছে।

এটিএম পদ্ধতিতে টাকা উত্তোলন সহজতর এবং জনপ্রিয় হলেও এর কিছু বিপত্তিকর বিষয়ও রয়েছে। অনেক সময়ই দেখা যাচ্ছে, এটিএম থেকে বের হওয়া  টাকার নোট জাল বা নকল, কখনওবা ছেঁড়া।  এটিএম থেকে ছেঁড়া বা জাল নোট বের হলে তা অনেকের জন্য ঝামেলাকর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের “নোট রিফান্ড নীতিমালা” (Note Refund Policy) BRPD Circular No.  01/2018 অনুযায়ী ছেঁড়া নোট এবং জাল নোট সংক্রান্ত নীতিমালা “Counterfeit Currency Detection and Handling Guidelines” (প্রজ্ঞাপন: DCM Circular No. 02/2019 এবং 2023 সালের সংশোধনী) অনুযায়ী নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

এটিএম মেশিনে জাল বা ছেঁড়া নোট বের হলে তার সমাধান

এটিএম থেকে সাধারণত ১০০, ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বের হয়। এটিএম থেকে টাকা বের হলেই প্রথমে নোটগুলো হাতে নিয়ে সুক্ষ্ণ ভাবে পরখ করে নিতে হবে ছেঁড়া বা জাল নোট আছে কিনা। মেশিন থেকে টাকা বের হবার পর নোটগুলো চেক না করা পর্যন্ত এটিএম বুথ থেকে বের হওয়া যাবে না বা নোটগুলো পকেটে বা ব্যাগে ঢুকানো যাবে না। নোটগুলো পরীক্ষা করার পর জাল বা ছেঁড়া নিশ্চিত হলে প্রথমে সেই নোটটি মেশিনের উপরের থাকা ক্যামেরার সামনে দুই হাতে এমন ভাবে তুলে ধরতে হবে যাতে- ছেঁড়া বা জাল নোটের নম্বর এবং ছেঁড়া অংশটি ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও হিসেবে রেকর্ড হয়- যেন তা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

এরপর যে মেশিন থেকে ছেঁড়া বা জাল নোট বের হয়েছে সেই মেশিনের নম্বরটি নোট করতে হবে। এটিএম বুথের বাইরে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীকে তা অবহিত করতে হবে। উক্ত নিরাপত্তাকর্মী জাল বা ছেঁড়া নোটের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নোট রাখবে। জাল নোট হলে থানায় সাধারণ ডায়েরী করতে হবে। ব্যাংকের কার্ড শাখায় বা কলসেন্টারে কল করেও অভিযোগ করে রাখা যায়। তারপর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকটির নিকটস্থ শাখায় যেতে হবে। ক্যাশ কাউন্টার অথবা যে কোনো অফিসারকে জানাতে হবে। নোটের পরিমাণ বেশি বা ছেঁড়ার পরিমাণ বেশি হলে নির্ধারিত ফরম পূরণের মাধ্যমে নোট পরিবর্তেনের আবেদন করতে হতে পারে। ব্যাংক তাৎক্ষণিক ভাবে নোট পরিবর্তন করে দিতে পারে বা কোনো ব্যাংক এই ছেঁড়া বা জাল নোট পরিবর্তনের জন্য ৭ কর্ম দিবস সময় নিয়ে থাকে।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংক জাল বা ছেঁড়া নোট পরিবর্তন করে না দিলে নির্ধারিত বা প্রয়োজনীয় সময় অতিক্রান্ত হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কনজ্যুমার অ্যাফেয়ার্স বিভাগে অভিযোগ দাখিল করা যাবে।

*গ্রন্থনা: ওয়াজেদ নবী, এডিটর, জুরিস্টিকো। 

 

আরও পড়ুন- গ্রেফতার এবং আটকের পার্থক্য

 

You cannot copy content of this page