বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ কেন কালো আইন
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ইত্যাদি রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯৭৪ সালে ‘বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪’ প্রণয়ন করা হয়।
এ আইনের মাধ্যমে সরকার কোনো ব্যক্তিকে ভবিষ্যতে ক্ষতিকর কাজ করতে পারে এই আশঙ্কায় বিনা পরোয়ানায় অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিরোধমূলক আটক (Preventive Detention) করতে পারে।
‘বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এর ধারা-৩ এ বলা আছে যে, সরকার বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যদি সন্তুষ্ট হয় যে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিকর কাজ (prejudicial act) সংঘটন করকে পারে, যা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিরোধী, জনশৃঙ্খলা বিনষ্ট, রাষ্ট্রের অর্থনীতির ক্ষতি করতে পারে, তাহলে তাকে প্রতিরোধমূলক আটক করতে পারে।
এছাড়াও বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৩ অনুযায়ী, যদি এমন কোনো ব্যক্তি যে কিনা রাষ্ট্রের রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জননিরাপত্তা জন্য হুমকি তাহলে সরকার তাকে বিচার ছাড়াই আটক করতে পারবে।
বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪-কে কেন কালো আইন বলা হয়?
‘বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ কে বাংলাদেশের বহু রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন, আইনজীবী ও আইনবিদগণ কালো আইন বলে সমালোচনা করেছেন।
কারণ:- এই আইনের মাধ্যমে সরকার কাউকে অপরাধ প্রমাণ হওয়ার আগেই আদালতের পরোয়ানা ছাড়াই শুধু সন্দেহ বা আশঙ্কার ভিত্তিতে দীর্ঘদিন আটক রাখতে পারে। এমনকি গুমও করে রাখতে পারে। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা বা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষতি করতে পারে বলে মনে হলে তাকে প্রতিরোধমূলক আটকে রাখা যায়।
সমালোচকদের মতে এতে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এই আইন ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এছাড়াও এই আইন ব্যবহার করে গুম করার নজিরও রয়েছে তাই অনেকে মনে করেন আইনটি রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহার করা সম্ভব। দীর্ঘ সময় বিচার ছাড়াই আটক রাখার সুযোগ এবং ‘ক্ষতিকর কার্য’ শব্দের বিস্তৃত ব্যাখ্যার কারণেও আইনটি বিতর্কিত হয়েছে। এসব কারণেই বহু আইনজীবী, মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব একে কালো আইনবলে অভিহিত করেছেন।
কেন এই আইন সংশোধন করা হয় নি?
এই আইন পাশ হয়েছে ১৯৭৪ সাথে কিন্তু এই পর্যন্ত অনেক সরকার ক্ষমতায় এসেছে কেউ এই আইন সংশোধন বা পরিবর্তন করেনি। এর অনেক কারণ রয়েছে, এর মধ্যে প্রধান কারণ হলো রাজনৈতিক দলগুলোর এই আইনের অপব্যবহার। বিভিন্ন অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মানুষ গুম করতে পারবে। এ ছাড়াও এই আইনের সাংবিধানিক বৈধতার কারণে সংখ্যা গরিষ্ঠ দল এই আইন বাতিল পরিবর্তন বা সংশোধন করে না। বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল এই এই আইনের অপব্যবহার করে এই জন্য পরিবর্তন করতে চায় না।
*লেখক: আল-জিহাদ উৎসব: আইনের শিক্ষার্থী; কন্ট্রিবিউটর, জুরিস্টিকো।
