২য় বিয়ে করতে লাগবে না ১ম স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট
হাইকোর্ট এক রায়ে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর আওতায় ২য় বিয়ের ক্ষেত্রে ১ম স্ত্রীর অনুমতির বাধ্যবাধকতা নেই বলে আদেশ দিয়েছেন। রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, ২য় বিয়ের অনুমতি প্রদানের ক্ষমতা স্ত্রীর নয়, বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত।
রায়ে বলা হয়, “মুসলিম আইনে পুরুষের জন্য ২য় বিয়ে বৈধ হলেও বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এটি সামাজিকভাবে নৈতিকতার লঙ্ঘন ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।”
২০২২ সালে দাখিল করা মুসলিম পারিবারিক আইনসংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বলেন, “ ২য় বিয়ে নারীদের কোনো মৌলিক বা মানবাধিকার লঙ্ঘন করে না। দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে ১ম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়ার কোনো সরাসরি আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।” ২৪ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত ব্যাখ্যা করেন, “যেহেতু বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের এখতিয়ারভুক্ত, তাই স্ত্রী অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়।”
সাধারণভাবে প্রচলিত ধারণা ছিল, ১ম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া ২য় বিয়ে করা যায় না। তবে আদালতের মতে, মুসলিম পারিবারিক আইনে এমন কোনো স্পষ্ট বিধান নেই। রায়ে দণ্ডবিধি ও পারিবারিক আইনের ইতিহাসও তুলে ধরা হয়। ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্ত্রী বা স্বামীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পরে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ জারী হলে নারীদের ক্ষেত্রে ওই শাস্তি বহাল থাকলেও পুরুষের ২য় বিয়ের বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সে ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে ১ বছর কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়।
এই রায়ের বিরুদ্ধে রিটকারী আইনজীবী এডভোকেট ইশরাত হাসান আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন। তারা রিট দায়ের করেছিলেন এই যুক্তিতে যে, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ-এর ৬ নং ধারায় ২য় বিবাহের জন্য স্ত্রীর সরাসরি অনুমতি নেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। এই বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে রিটটি দায়ের করা হয়েছিল। তারা আশঙ্কা করছেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে বহু বিবাহের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তারা বলছেন, নারী ও পুরুষের সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই রিটটি দায়ের করা হয়েছিল।
