ExplanationHome

এপস্টেইন ফাইলস কি?

এপস্টেইন ফাইলস (Epstein Files) হলো বিতর্কিত আমেরিকান ধনকুবের ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের (Jeffrey Epstein) অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্তে সংগৃহীত এক বিশাল সংগ্রহসম্ভার, যার মধ্যে লক্ষ লক্ষ পৃষ্ঠার নথিপত্র, ই-মেইল, ছবি, ভিডিও, সাক্ষ্য, কোর্ট রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রমাণ রয়েছে। এগুলোতে এপস্টেইনের শিশু যৌন পাচার নেটওয়ার্ক, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের শোষণ এবং তার সাথে যুক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগাযোগের বিবরণ বিস্তারিত ভাবে উল্লেখ রয়েছে।

মার্কিন অভ্যন্তরীণ প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI) এবং মার্কিন বিচার বিভাগের (US Department of Justice) সেন্টিনেল সিস্টেমে থাকা ৩০০ গিগাবাইটেরও বেশি ডাটা রয়েছে এই ফাইলে। এপস্টেইনের ব্যক্তিগত যোগাযোগের বই, ফ্লাইট লগ এবং আদালতের রেকর্ড ইত্যাদি সব ডাটা সংগ্রহ করে এতে রাখা হয়েছে। ফাইলটি এপস্টেইনের ক্লায়েন্টদের আনুষ্ঠানিক ‘ক্লায়েন্ট লিস্ট’ নয়, বরং একটি ফোন ডিরেক্টরির মতো, যাতে বৈশ্বিক তারকা, রাজনীতিবিদ এবং সাধারণ লোকজনের নাম রয়েছে, কিন্তু কোনো ব্ল্যাকমেইলের সরাসরি প্রমাণ নেই। এপস্টেইনের দ্বারা সংঘটিত যৌন নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীদের পক্ষে কাজ করা অস্ট্রেলীয় মার্কিন আইনজীবী ভার্জিনিয়া জিউফ্রে কর্তৃক ২০১৫ সালে দায়ের করা মানহানি মামলা এবং অন্যান্য কিছু মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ হিসেবে আদালতে এসব এপস্টেইন ফাইল দাখিল করার অংশ হিসেবে বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

 

জেফ্রি এপস্টেইন ২০০৬ সালে প্রথম অভিযুক্ত হন যৌন অপরাধের জন্য, ২০০৮ সালে একটি সাজা গ্রহণ করেন, এবং ২০১৯ সালে আবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রহস্যজনকভাবে মারা যান, যা সরকারি রিপোর্টে আত্মহত্যা বলে দেখানো হয়। তার সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েলও এই চক্রে জড়িত ছিলেন, যিনি অপ্রাপ্তবয়স্কদের পাচারে সাহায্য করে দণ্ডিত হয়েছেন। এপস্টেইন তার ব্যক্তিগত দ্বীপ ‘লিটল সেন্ট জেমস’ এবং বিমান ‘ললিটা এক্সপ্রেস’-এ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানাতেন,  অভিযোগ রয়েছে যে গোপন ক্যামেরা দিয়ে তাদের কর্মকাণ্ড রেকর্ড করে ব্ল্যাকমেইল করা হতো, যদিও এর কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ ফাইলসে পাওয়া যায়নি। এই ফাইলগুলো কেবল একজন অপরাধীর গল্প নয়, বরং ক্ষমতাধরদের অদৃশ্য সুরক্ষা এবং বিচারহীনতার চিত্র তুলে ধরে।

ফাইলসে উল্লেখিত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিল ক্লিনটন, ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্স অ্যান্ড্রু, বিল গেটস, ইলন মাস্ক, মাইকেল জ্যাকসন এবং স্টিফেন হকিং-এর মতো নাম। ট্রাম্পের নাম শত শতবার উঠে এসেছে, যেমন ২০১১ সালের ই-মেইলে এক ভুক্তভোগীর সাথে তার সময় কাটানোর উল্লেখ, কিন্তু কোনো সরাসরি অপরাধের অভিযোগ নেই এবং ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি এপস্টেইনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন ২০০৭ সালে। অন্যান্য নামগুলোও মূলত যোগাযোগ বা ফ্লাইট লগে উল্লেখিত, যা অপরাধের প্রমাণ নয় বরং সামাজিক নেটওয়ার্কের চিত্র। ভুক্তভোগীদের জবানবন্দিতে নির্যাতনের বর্ণনা রয়েছে।

 

২০২৫ সালে ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ (Epstein Files Transparency Act) পাস হওয়ার পর ফাইলগুলো পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে ৩০ লক্ষ পৃষ্ঠা, ১৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজার ভিডিও রিলিজ হয়েছে। তবে অনেক নথি রেড্যাকটেড বা অপ্রকাশিত রয়েছে, যা ভুক্তভোগীদের হতাশা এবং ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বাড়িয়েছে।

 

আরও পড়ুন- ইন্টারপোলের দায়দায়িত্ব ও কার্যাবলি

 

You cannot copy content of this page