চেম্বার জজ আদালত কি?
চেম্বার জজ বা চেম্বার জজ আদালত বলতে উচ্চ আদালতের একজন বিচারকের ব্যক্তিগত কার্যালয়কে (judge’s chambers) বোঝায়, যেখানে উন্মুক্ত আদালতের পরিবর্তে গোপনীয় বা জরুরি প্রকৃতির মামলার রুদ্ধদ্বার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, এবং এতে সাধারণত জনসাধারণ বা গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার থাকে না। এখানে chamber শব্দটি আদালতের খোলা এজলাস (open court) নয়, বরং বিচারকের ব্যক্তিগত বিচারকক্ষ বা অফিস কক্ষকে নির্দেশ করে।
চেম্বার জজ ধারণাটি উদ্ভূত হয়েছে ল্যাটিন টার্ম ‘in camera’ (যার অর্থ ‘চেম্বারে’ বা গোপনীয়ভাবে) থেকে। চেম্বার আদালত বসে কোনো মামলা প্রকাশ্য আদালতের বাইরে শোনার জন্য, যাতে সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষিত থাকে। সাধারণত, চেম্বারগুলো আদালত ভবনের কাছাকাছি এবং বিচারকের খাসকামরা সংলগ্ন থাকে, যেখানে বিচারক সহজে প্রবেশ করতে পারেন এবং প্রি-ট্রায়াল সেটেলমেন্ট বা প্লি বারগেইনিংয়ের মতো অনানুষ্ঠানিক আলোচনা সেখানে অনুষ্ঠিত হয়। ১৭শ শতাব্দীতে প্রথম চেম্বার আদালত চালু হয়, যদিও ১৮২১ সালের আগে এর কোনো আইনি স্বীকৃতি ছিল না; পরবর্তীতে Judges’ Chambers Act 1867 এবং Supreme Court of Judicature Act 1873-এর মাধ্যমে এর আইনি কাঠামো স্থাপিত হয়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চেম্বার জজ বলতে সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের একজন বিচারককে বোঝায়, যিনি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে (Full Bench) না বসে এককভাবে তাঁর চেম্বারে (in chambers) নির্দিষ্ট কিছু জরুরি ও অন্তর্বর্তী আবেদন শুনে থাকেন। হাইকোর্ট বিভাগের নিষ্পত্তির পর আপিলকারীর জরুরি আবেদন শোনেন এবং ‘স্থগিতাদেশ’ (Stay Order) বা অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রদান করেন, যাতে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রায় স্থগিত থাকে বা কোনো ক্ষতি না হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করার পর চেম্বার জজের কাছে আবেদন করা হয়, এবং তিনি মামলাটি আপীল বিভাগে শুনানির জন্য গ্রহণযোগ্য কি না তা নির্ধারণ করেন।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে দুটি চেম্বার জজ আদালত চালু করা হয়েছে: চেম্বার জজ-১ যিনি সিভিল এবং ক্রিমিনাল মামলার শুনানী করেন (জাস্টিস মো. রেজাউল হক), এবং চেম্বার জজ-২ যিনি রিট এবং অরিজিনাল জুরিসডিকশনের মামলা দেখেন ( জাস্টিস ফারাহ মাহবুব)। এই ব্যবস্থা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং লিটিগ্যান্টদের সময়-খরচ সাশ্রয়ের জন্য চালু করা হয়েছে, যা প্রধান বিচারপতির আদেশানুসারে রেজিস্ট্রার জেনারেল দ্বারা ঘোষিত। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩-এর অধীনে আপীল বিভাগের এই ক্ষমতা নির্ধারিত, যেখানে চেম্বার জজ মামলার মৌলিকতা যাচাই করে এবং প্রয়োজনে ফুল বেঞ্চে প্রেরণ করেন।
চেম্বার জজের আদেশ চূড়ান্ত নয়। সেই আদেশের বিরুদ্ধে— “Motion to Vacate” (আদেশ বাতিলের আবেদন) এবং “Appeal to the Full Bench” (পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আপিল) দায়ের করা যায়।
*গ্রন্থণা: ওয়াজেদ নবী, এডিটর, জুরিস্টিকো।
আরও পড়ুন- লীভ টু আপীল কি?
