লিভ টু আপীল বলতে কী বুঝায়?
লিভ টু আপীল (Leave to Appeal) বলতে বুঝানো হয় কোনো অধ্বস্তন আদালতের রায় বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপীল করার অনুমতি চাওয়া এবং অনুমতি পাবার পর আপীল দাখিল করাকে, বিশেষ করে যখন আইনগত কারণে কোনো মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপীলের স্বয়ংক্রিয় অধিকার না থাকে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগে (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের (High Court Division) রায়ের বিরুদ্ধে আপীলের অনুমতি চাওয়ার ক্ষেত্রে লিভ টু আপীল প্রক্রিয়া অনুসৃত হয়, যখন হাইকোর্টের রায়ে আপীলের সম্ভাবনা উল্লেখ না থাকে বা আপীলের অনুমতি প্রয়োজন হয়। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে শুধুমাত্র যথাযথ যোগ্যতাসম্পন্ন (on the merits) মামলাগুলোই উচ্চতর আদালতে পৌঁছায়, যাতে আদালতের সময় এবং সম্পদের অপচয় না হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি হাইকোর্টের রায়ে আপীলের অনুমতি স্পষ্টভাবে না দেওয়া থাকে, তাহলে আবেদনকারীকে প্রথমে আপীল বিভাগে লিভ টু আপীলের আবেদন দাখিল করতে হয়, যেখানে আপীলের যোগ্যতা যাচাই করা হয়।
বাংলাদেশের আইন অনুসারে, লিভ টু আপীলের আইনি ভিত্তি প্রধানত বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩ এ নিহিত, যা হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের পর আপীল বিভাগে আপীলের সুযোগ প্রদান করে। এছাড়া, সিভিল প্রসিডিউর কোড (Code of Civil Procedure – CPC) -এর ধারা ১৭০ অনুসারে, নিঃস্ব বা অসচ্ছল ব্যক্তিরা (indigent persons) আপীলের অনুমতি চাইতে পারেন, যার জন্য ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন দাখিল করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীকে আপীলের কারণগুলো (grounds of appeal) উপস্থাপন করতে হয়, এবং আপীল বিভাগ যদি মনে করে যে মামলাটি আপীলযোগ্য, তাহলে এটিকে নিয়মিত আপীল হিসেবে গ্রহণ করে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে, যেমন যুক্তরাজ্য বা আয়ারল্যান্ডে, লিভ টু আপীল সাধারণত সুপ্রিম কোর্টে বিচারিক (অধ্বস্তন) আদালতের রায় চ্যালেঞ্জ করার জন্য প্রয়োজন হয়, যেখানে আবেদন দাখিলের সময়সীমা ২১ দিনের মতো হয় এবং আদালতের বিবেচনাধীন (discretionary) সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে।
লিভ টু আপীলের প্রক্রিয়া আবেদন দাখিলের মাধ্যমে শুরু হয়, যেখানে আবেদনকারীকে রায়ের অনুলিপি, আদালতের রায়ের অনুলিপি এবং আপীলের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংযুক্ত করতে হয়। বাংলাদেশে, যদি আপীল বিভাগ আবেদন গ্রহণ করে, তাহলে তা পূর্ণ আপীল হিসেবে শুনানী হয়; অন্যথায়, আবেদন খারিজ হয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক উদাহরণ হিসেবে, ফিনল্যান্ডে লিভ টু আপীল সুপ্রিম কোর্টে আপীলের জন্য প্রয়োজন, যেখানে এটি আইনের সামঞ্জস্যতা (consistency of case law), প্রক্রিয়াগত ত্রুটি (procedural error) বা অন্যান্য গুরুতর কারণের ভিত্তিতে দেওয়া হয়, এবং কোড অফ জুডিশিয়াল প্রসিডিউরের চ্যাপ্টার ৩০, ধারা ৩ অনুসারে নিয়ন্ত্রিত। আইসিসি (International Criminal Court) -তে, এটি নির্দিষ্ট নিয়ম যেমন রুল ১০৩-এর অধীনে অ্যামিকাস কিউরি (amicus curiae) সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীলের অনুমতি চাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। এই প্রক্রিয়া আইনের স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সাহায্য করে, কিন্তু সবসময় সফল হয় না কারণ আদালত শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ মামলায়ই লিভ টু আপীলের অনুমতি প্রদান করে।
আরও পড়ুন- ফুল কোর্ট সভা বলতে কী বুঝায়?
