ExplanationHome

ফুল কোর্ট সভা বলতে কী বুঝায়?

“ফুল কোর্ট সভা” বলতে একটি আদালতের (সাধারণত উচ্চ আদালতের) সকল বা প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতির (judges) সম্মিলিত সভাকে বোঝায়, যেখানে তারা গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত, প্রশাসনিক বা জরুরি বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এটি কোনো নিয়মিত বিচারিক আদালত (Bench) নয়, বরং এটি একটি প্রশাসনিক ফোরাম। এর ইংরেজি টার্ম হলো “full court” বা “full bench”, এবং ল্যাটিন-উদ্ভূত টার্ম হলো “en banc” (যার অর্থ “on the bench” বা বেঞ্চে বসে), যা সাধারণত ইউরোপীয় প্রেক্ষাপটে “Grand Chamber” নামেও পরিচিত।

ফুল কোর্ট সভা মূলত আদালতের প্রশাসনিক ক্ষমতার অংশ, বিচারিক (Judicial) ক্ষমতার নয়। ফুল কোর্ট সভা বিচার বিভাগের ‘সুপ্রিম পার্লামেন্ট’-এর মতো। এই সভা সাধারণ মামলার শুনানির জন্য নয়, বরং বিচার বিভাগের গুণগত মান উন্নয়ন, ঐক্য প্রদর্শন এবং গুরুত্বপূর্ণ আইনি ব্যাখ্যা (interpretation of law) বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জন্য ডাকা হয়, যা ইংল্যান্ড থেকে উদ্ভূত হলেও এখন কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে, যেমন অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে প্রচলিত, যেখানে এটি সাধারণত তিন বা তার অধিক বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চকে বোঝায় এবং প্রধান বিচারপতির এখতিয়ারে আহ্বান করা হয়।

বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে “ফুল কোর্ট সভা”বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, যা সংবিধানের রক্ষক (guardian of the constitution) হিসেবে পরিচিত এই আদালতের আপিল বিভাগ (Appellate Division) এবং হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) এর সকল বিচারপতির (প্রায় ৯০ জন) মিলিত বৈঠক, যেখানে অধস্তন আদালতের (subordinate courts) বিচারকদের নিয়োগ (appointment), বদলি (transfer), পদোন্নতি (promotion) সহ অন্যান্য জরুরি বিষয়ে আলোচনা হয়।

ফুল কোর্ট সভা বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা, স্বাধীনতা এবং কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালের ১০ অগাস্ট প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ফুল কোর্ট সভা ডেকেছিলেন, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে “সাংবিধানিকভাবে অবৈধ” ঘোষণার উদ্দেশ্যে বলে অভিযোগ উঠে, কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ এবং পদত্যাগের আল্টিমেটামের কারণে সভা বাতিল হয় এবং তিনি পদত্যাগ করেন, যা বিচার বিভাগের উপর রাজনৈতিক চাপের প্রশ্ন তুলেছে।

২০২৫ সালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ একাধিক ফুল কোর্ট সভা আহ্বান করেছেন, যেমন অক্টোবর ২৫-এ সভায় ১৮ ডিসেম্বরকে “বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস”ঘোষণা করা হয়, নভেম্বর ৪-এ অধস্তন বিচারকদের পদোন্নতি এবং বদলি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এবং নভেম্বর ২৭-এ আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যা বিচার বিভাগের সংস্কার (judicial reforms) এবং সাংবিধানিক পরিবর্তনের সাথে যুক্ত। যদিও “ফুল কোর্ট” শব্দটি খেলাধুলার ক্ষেত্রে যেমন বাস্কেটবলে “full-court press” হিসেবে ব্যবহৃত হয় যা পুরো কোর্ট জুড়ে প্রতিপক্ষকে চাপ দেওয়ার কৌশলকে বোঝায় এবং উপমায় সর্বোচ্চ চেষ্টা প্রকাশ করে, তবে আইনি প্রেক্ষাপটে এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিচারিক প্রক্রিয়ার গুণগত মান এবং ঐক্য নিশ্চিত করা, যা বিভিন্ন দেশে আইনি নজির (precedent) তৈরিতে প্রভাব ফেলে।

 

আরও পড়ুন- অ্যামিকাস কিউরি কী?

 

 

You cannot copy content of this page