BlogOpinion

ফৌজদারী আইনে ম্যাজিস্ট্রট কর্তৃক অপরাধের আমল গ্রহণ

একজন আইনের ছাত্র বা আইনজীবী হওয়ার আগে এই বিষয় গুলো জানা অত্যন্ত জরুরী। যদি কোন ব্যক্তি কোন ফৌজদারী  অপরাধ করে তাহলে আমরা প্রায়ই কনফিউজড হয়ে যাই কোথায় মামলা দায়ের করব, কার কাছে যাব- পুলিশের কাছে নাকি আদালাতে। ফৌজদারি মামলা মূলত দুই ভাবে দায়ের করা যায় ১.পুলিশের নিকট  ২. আদালতে। পুলিশের নিকট যেটা করা হয় সেটাকে বলা হয় G.R Case FIR, or NoN G.R Case GDE, G.R Case হলো Court register, আমরা সকলেই হয়তো কমবেশি শুনেছি F.I. R শব্দটি। যদিও শব্দটি সরাসরি ফৌজদারী কার্যবিধিতে উল্লেখ নেই। F.I.R শব্দটির অর্থ হলো First Information Report অর্থ প্রাথমিক তথ্য বিবরণী এর অর্থ হিসাবে বলা যায় কোন অপরাধের প্রথম দিকের তথ্য। যদি কোন ব্যক্তি কোন আমলযোগ্য অপরাধ করে তাহলে সে আমালযোগ্য অপরাধ সম্পর্কে যে সংবাদ দাতা সংবাদ দেয় সেটা লিখিত আকারে পুলিশ কর্তৃক লিপিবদ্ধ করা হয় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্ত তথ্য লিপিবদ্ধ  করেন। এমন তথ্যর ভিত্তিতে পুলিশ তার তদন্ত কার্য শুরু করে এবং এমন তদন্ত বলা যায় পুলিশের ক্ষমতা অবারিত কারণ এমন তদন্তে কোন ম্যাজিস্ট্রেট হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

বাংলাদেশ বনাম ট্যান কেএইচবিএমজি হুক (এডি) ৭০  মামলায় বলা হয় তদন্তের সময় তদন্ত সমাপ্ত করতে পুলিশ অসীম ক্ষমতা উপভোগ করবে এবং তদন্ত পর্যায়ে হাইকোর্ট বিভাগ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। একটা মজার বিষয় কি জানেন এত কিছু ক্ষমতা পাওয়ার পরও কিন্তু এই পুলিশ তদন্ত রিপোর্ট  যা ফৌঃকাঃ ১৭৩ ধারায় দাখিল করা হয় তা কিন্তু সাক্ষ্য না কারণ সাক্ষ্য আইনের নীতি হলো যতক্ষণ পর্যন্ত না কোন সাক্ষাৎ কে খন্ডিত বা জেরা  করা হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত সেটা সাক্ষ্য বলে বিবেচিত হয় না। আরও মজার বিষয় হলো  পুলিশ রিপোর্ট আমলে নিতে ম্যাজিস্ট্রেট বাধ্য না। ম্যাজিস্ট্রট এখানে তার সুবিবেচনামূলক ক্ষমতা/ বিবেচনা মূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে (Discretionary power).

G.D.E হলো General Diary Entry যা আমালঅযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে সংবাদ ১৫৫ ধারা অনুসারে পুলিশের নিকট দায়ের করা হয় কিন্তু, ম্যাজিস্ট্রেট এর অনুমতি ছাড়া পুলিশ তদন্ত করতে পারে না।

এইকথা গুলো  লিখার কারণ হলো ম্যাজিস্ট্রেট কি ভাবে অপরাধ আমলে নেয় এবং কোন কোন ম্যাজিস্ট্রেট নিতে পারে তা বুঝতে  সুবিধা হবে। আর একটি বিষয় যা জানা থাকা ভাল।  কোন কোন অপরাধ আমলযোগ্য এবং কোন কোন অপরাধ আমাল যোগ্য না তা CRPC Schedule 2  বলা আছে। এখন আসা যাক অপরাধ আমালে নেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে অপরাধ আমলে নেওয়ার কথাটি বলা আছে CRPC  ১৯০ ধারায়, যে কোন কোন ম্যাজিস্ট্রট অপরাধ আমলে নিতে পারে কোন কোন সূত্রতে কি ভাবে, ১৯০ ধারা অনুসারে অপরাধ আমলে নিতে পারে-

১.চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মেট্রোপলিটন এলাকায় চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।

২. প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট, মেট্রোপলিটন এলাকায়, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট,

বা ক্ষমতা প্রাপ্ত বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট। শুধু মাত্র উপরে উল্লেখিত ম্যাজিস্ট্রেটগণ মামলা আমলে নিতে পারেন অন্য কোন ম্যাজস্ট্রেটগণ নয় এমন কি হাইকোর্ট বিভাগও না। তবে হাইকোর্ট বিভাগের একটি মামলার ক্ষেত্রে High court Division  এর  original Jurisdiction আছে সেটা হলো Writ petition ( Article 102, Constitution)  এর ক্ষেত্রে।

এখন প্রশ্ন থেকে যায় কোন কোন সূত্রে  ম্যাজিস্ট্রেট মামলা আমলে নেন ১৯০(১) ক নালিশ এর ভিত্তিতে,   নালিশ মামলা কে সংক্ষেপে  CR মামলা বলা হয় এর মানে হচ্ছে Court Register. যা আদালতে দায়ের করা হয়, ২০০ ধারায় সাক্ষীদের পরিক্ষা করারপর ১৯০ (১) ক ধারায় ম্যাজিস্ট্রট অপরাধ আমলে নেন। ১৯০(১) খ ধায়া পুলিশ তদন্ত রিপোর্ট  উপর ভিত্তি করে মামলা আমলে নেন। পুলিশ রিপোর্ট ১৭৩ ধারা অনুসারে দুই প্রকার।  ১. চার্জশীট  ২.ফাইনাল রিপোর্ট, পুলিশ তদন্ত শেষে যদি  পুলিশ অপরাধ  অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযেগ খুঁজে পায় তাহলে চার্জশীট দাখিল করে আর অভিযোগ খুঁজে না পেলে ফাইনাল রিপোর্ট।  তবে ফাইনাল রিপোর্ট এর বিরুদ্ধে নারাজি দরখাস্ত (protest petition)  দেওয়া যায় যা ২০০ ধারা একটি Fresh complain হিসাবে বিবেচিত হয়।

পুলিশ ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির মাধ্যমে বা ম্যাজিস্ট্রেট সন্দেহের মাধ্যমে মামলা আমলে নিতে পারেন।  ব্যাপার গুলো হয়তো অনেকই জানি আবার অনেকই জানি না তবে একজন আইন এর ছাত্র বা ছাত্রী হিসাবে বিষয় গুলো জানা প্রয়োজন তাই লিখা।

*লেখক : শাহরিয়ার চৌধুরীর ইমন Apprentice Lawyer District and session judge court Kishoreganj.

 

আরো পড়ুন- লিগ্যাল এইড সার্ভিস কিভাবে কাজ করে

You cannot copy content of this page