মার্শাল ল বলতে কি বুঝায়?
“মার্শাল ল”(Martial law) বা সামরিক আইন হলো এমন একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা, যেখানে সাধারণ নাগরিক (বেসামরিক) শাসন ও আইন ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে বা অকার্যকর হয়ে পড়লে সামরিক বাহিনীর কর্তৃত্ব দিয়ে দেশ বা কোনো অঞ্চলের শাসনকার্য পরিচালনা করা হয়। মার্শাল ল সাধারণত যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ, বিদ্রোহ, বড় ধরনের দাঙ্গা-হাঙ্গামা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা গুরুতর রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় জারি করা হয়, যখন রাজনৈতিক সরকার বা পুলিশ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়।
মার্শাল ল জারি হলে সামরিক কর্তৃপক্ষ আইন প্রণয়ন, প্রয়োগ এবং বিচারের পূর্ণ ক্ষমতা লাভ করে; সাধারণ ফৌজদারী ও দেওয়ানী আদালত এবং স্বাভাবিক আইন স্থগিত হয়ে যায়, সমাবেশ ও বাকস্বাধীনতার অধিকার স্থগিত হয়, বিনা বিচারে আটক হওয়া থেকে সুরক্ষার অধিকারের (হ্যাবিয়াস কর্পাস) (Habeas corpus) মতো মৌলিক অধিকারও সাময়িকভাবে স্থগিত হয়, কার্ফিউ জারি হয় এবং প্রয়োজনে নাগরিকদের সামরিক ট্রাইবুন্যাল বা কোর্ট মার্শালেও বিচার করা যায়। গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। এটি কোনো স্থায়ী বা বিধিবদ্ধ আইন নয়, বরং জরুরি প্রয়োজনের ভিত্তিতে আরোপিত হয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তা তুলে নেওয়া হয়।
অনেক দেশে এটি জরুরি অবস্থা (state of emergency) থেকে আলাদা, কারণ জরুরি অবস্থায় সামরিক বাহিনী পুরো শাসনকার্যের জায়গা নেয় না। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে রাষ্ট্রপতি বা গভর্নর এটি ঘোষণা করতে পারেন, আর ইতিহাসে এর অনেক উদাহরণ আছে যেমন গৃহযুদ্ধ বা দেশীয় অশান্তির সময়। সার্বিকভাবে, মার্শাল ল একটি চরম পদক্ষেপ, যা শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য নেওয়া হয় কিন্তু নাগরিক স্বাধীনতা সাময়িকভাবে খর্ব করতে পারে।
আরও পড়ুন- মানবাধিকার কাকে বলে?
