ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত হওয়া ব্যাপক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নৃশংস ভূমিকার জন্য তাকে ‘দোষী’ সাব্যস্ত করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর দেশ শাসন করার পর ক্ষমতা হারানো এই নেত্রী বর্তমানে বিদেশে (ভারতে) নির্বাসনে রয়েছেন এবং তার অনুপস্থিতিতেই এই রায় ঘোষণা করা হলো। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক সরকারপ্রধানকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার বিস্তারিত: ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’র প্রয়োগ
২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আইসিটি-১-এর পক্ষ থেকে এই রায় ঘোষণা করা হয়। ট্রাইব্যুনাল তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করে যে, ২০২৪ সালের জুনের শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া এবং আগস্ট পর্যন্ত বিস্তৃত বিক্ষোভ দমনের সময় নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যে অত্যধিক এবং মারাত্মক শক্তি প্রয়োগ করেছিল, তার ‘মূল পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা এবং সর্বোচ্চ কমান্ডার’ হিসেবে শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ।
মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষ প্রমাণ করে যে, শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে নিরস্ত্র জনতার ওপর হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ, মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং নির্বিচারে ধরপাকড় করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের সূত্র অনুযায়ী, এই নৃশংস দমন-পীড়নে সারাদেশে ১,৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হন। রায়ে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার অবস্থান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতার ভিত্তিতে তার ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ প্রমাণিত। এই একই রায়ে, তার সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকেও একই অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের পটভূমি ও আইনি জটিলতা
ironically, যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মূলত ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য ২০১০ সালে শেখ হাসিনার সরকার কর্তৃক গঠিত হয়েছিল, সেই ট্রাইব্যুনালই আজ তার বিরুদ্ধে রায় দিল। এই ট্রাইব্যুনাল তার গঠন ও বিচারিক মানদণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে অতীতে বহুবার সমালোচিত হয়েছে।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এই ‘ইন অ্যাবসেনশিও’ (in absentia) বিচারের আইনি বৈধতা নিয়েও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও বাংলাদেশের আইনে অনুপস্থিত আসামির বিচার সম্ভব, কিন্তু আন্তর্জাতিক আইনে এমন গুরুত্বপূর্ণ রায়ের ক্ষেত্রে আসামির পর্যাপ্ত আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিচার চলাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন যে, তারা কার্যকরভাবে সাক্ষ্য উপস্থাপন বা যুক্তি খণ্ডনের সুযোগ পাননি।
আরও পড়ুন- মানবাধিকার কাকে বলে?
