BD LawsHome

যে ৩০ বিষয়ে হচ্ছে গণভোট

৫ আগস্ট ২০২৪ ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে দেশে সাংবিধানিক, কাঠামোগত, আইনগত ও প্রশাসনিক বিভিন্ন সংস্কারের দাবী ওঠে। সে প্রেক্ষিতে জাতীয় ঐক্যমত কমিশন দেশের জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের সবগুলো রাজনৈতিক দল, আইন সংবিধান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞ মহল এবং সুশীল সমাজের সাথে দফায় দফায় বৈঠকের মাধ্যমে ৮৪টি প্রস্তাব সংস্কারের জন্য গ্রহণ করেন। ৮৪টি প্রস্তাব থেকে সাংবিধানিক ৪৮টি বিষয় জুলাই সনদে অন্তভুক্ত করে ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর সনদ সাক্ষরিত হয়। বাকি প্রস্তাবগুলো প্রশাসনিক সংস্কারমূলক হওয়ার কারণে এগুলো অন্তর্বতী সরকার অধ্যাদেশ বা নির্বাহী আদেশ জারী করে বাস্তবায়ন করবে। জুলাই সনদের ৪৮টি প্রস্তাবের মাঝে নোট অব ডিসেন্ট ছাড়াই সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হওয়া ৩০টি বিষয়ের উপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটের জন্য ৩০টি বিষয়কে বিশ্লেষণ করে চারটি পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো-

“আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?”; (হ্যাঁ/ না):

(ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হইবে।

(খ) আগামী জাতীয় সংসদ হইবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হইবে এবং সংবিধান সংশোধন করিতে হইলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হইবে।

(গ) সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হইতে ডেপুটি স্পীকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হইয়াছে- সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকিবে।

(ঘ) জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হইবে।

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ ঐকমত্য হওয়া ৩০টি বিষয়

. ভাষা: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্র ভাষা হবে বাংলা। সংবিধানে বাংলাদেশের নাগরিকদের মাতৃভাষা হিসেবে ব্যবহৃত অন্যান্য সকল ভাষাকে দেশের প্রচলিত ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।

. বাংলাদেশের নাগরিকদের পরিচয়: বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬(২)-এ বর্ণিত ‘বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন’ বিধানটি নিম্নোক্তভাবে প্রতিস্থাপন করা হবে: “বাংলাদেশের নাগরিকগণ ‘বাংলাদেশি’ বলিয়া পরিচিত হইবেন।”

. সংবিধান বিলুপ্তি স্থগিতকরণ ইত্যাদির অপরাধ: সংবিধান বিষয়ক অপরাধ ও সংবিধান সংশোধনের সীমাবদ্ধতা বিষয়ক বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ক এবং ৭খ বিলুপ্ত করা হবে।

. ক্রান্তিকালীন অস্থায়ী বিধানাবলি: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫০(২) সংশোধন করা হবে এবং এ সংশ্লিষ্ট ৫ম ও ৬ষ্ঠ তফসিল সংবিধানে রাখা হবে না।

. জরুরি অবস্থা ঘোষণা:

(১) বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪১ক সংশোধনের সময় ‘অভ্যন্তরীণ গোলযোগের’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি হুমকি বা মহামারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত হবে।

(২) জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরের পরিবর্তে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের বিধান যুক্ত করা হবে। জরুরি অবস্থা ঘোষণা সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা অথবা তার অনুপস্থিতিতে বিরোধীদলীয় উপনেতার উপস্থিতি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

(৩) জরুরি অবস্থাকালীন নাগরিকের দুইটি অধিকার অলঙ্ঘনীয় করার লক্ষ্যে এ মর্মে বিধান করা হবে যে, “অনুচ্ছেদ ৪৭ক-এর বিধান সাপেক্ষে কোনো | নাগরিকের (ক) জীবনের অধিকার (Right to life) এবং (খ) বিচার ও দন্ড সম্পর্কে বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫-এ বর্ণিত মৌলিক অধিকারসমূহ খর্ব করা যাবে না।

. সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান মর্যাদা: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, বাংলাদেশ একটি বহু- জাতি-গোষ্ঠী, বহু-ধর্মী, বহু-ভাষী ও বহু-সংস্কৃতির দেশ যেখানে সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।

. মৌলিক অধিকারসমূহের তালিকা সম্প্রসারণ: নাগরিকের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, সেগুলোর সুরক্ষা এবং বাস্তবায়নে সাংবিধানিক ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। নাগরিকের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রস্তাবগুলো জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের রিপোর্টে উল্লেখ করা হবে, যাতে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করেন এবং ভবিষ্যতে জনপ্রতিনিধিরা সাংবিধানিক ব্যবস্থা ও আইনি বিধানাবলি পরিবর্তন করতে পারেন।

. রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী আইনসভার উভয় কক্ষের (নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ) সদস্যদের গোপন ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান| সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮(৪)-এ বর্ণিত যোগ্যতাসমূহ এবং রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সময় কোনো ব্যক্তি কোনো রাষ্ট্রীয়, সরকারি বা রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের পদে থাকতে পারবেন না

. রাষ্ট্রপতির অভিশংসন প্রক্রিয়া: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, রাষ্ট্রদ্রোহ, গুরুতর অসদাচরণ বা সংবিধান লঙ্ঘনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যাবে। আইনসভার নিম্নকক্ষে অভিশংসন প্রস্তাবটি দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে পাস করার পর তা উচ্চকক্ষে প্রেরণ এবং উচ্চকক্ষে শুনানির মাধ্যমে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থনে অভিশংসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

১০. রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যেকোনো দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করার এবং যেকোনো দন্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকবে এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত মানদণ্ড, নীতি ও পদ্ধতি অনুসরণক্রমে তিনি উক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। সংশ্লিষ্ট আইনে এরূপ বিধান রাখা হবে যে, এরূপ কোনো আবেদন বিবেচনার পূর্বে মামলার বাদী বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবারের সম্মতি গ্রহণ করা হবে।

১১. প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ: একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী পদে যত মেয়াদ বা যত বারই হোক সর্বোচ্চ ১০ (দশ) বছর থাকতে পারবেন, এজন্য সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদসমূহের প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।

১২. আইনসভা গঠন: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, বাংলাদেশে একটি দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা থাকবে, যা নিম্নকক্ষ (জাতীয় সংসদ) এবং উচ্চকক্ষ (সিনেট) সমন্বয়ে গঠিত হবে।

১৩. উচ্চকক্ষের সদস্যদের যোগ্যতা অযোগ্যতা: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, উচ্চকক্ষের সদস্যগণের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নিম্নকক্ষের সদস্যগণের যোগ্যতার অনুরূপ হবে।

১৪. জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব: জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব ক্রমান্বয়ে ১০০ (একশত) আসনে উন্নীত করা হবে।

১৫. জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির পদ্ধতি:

(ক) বিদ্যমান সংরক্ষিত ৫০ (পঞ্চাশ) টি আসন বহাল রেখে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৫(৩)-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে।

(খ) জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ স্বাক্ষরের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে প্রতিটি রাজনৈতিক দল বিদ্যমান ৩০০ (তিনশত) সংসদীয় আসনের জন্য প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫ (পাঁচ) শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিবে, তবে এটি সংবিধানে উল্লেখ করা হবে না।

(গ) পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো ন্যূনতম ১০ (দশ) শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিবে।

(ঘ) এই পদ্ধতিতে রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩৩ (তেত্রিশ) শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নের লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক সাধারণ নির্বাচনে ন্যূনতম ৫ (পাঁচ) শতাংশ বর্ধিত হারে নারী প্রার্থী মনোনয়ন অব্যাহত রাখবে।

(ঙ) সংবিধানে বর্ণিত জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন অব্যাহত রেখে সংবিধানের সপ্তদশ (১৭তম) সংশোধনী (যা ৮ জুলাই ২০১৮ সালে সংসদে পাশ হয়)-এর মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ ২৫ (পঁচিশ) বছর বৃদ্ধি করা হয়, হিসাব অনুযায়ী তা ২০৪৩ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে; তবে সাধারণ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ৩৩ (তেত্রিশ) শতাংশ নারী প্রার্থিতার লক্ষ্য ২০৪৩ সালের আগেই যদি অর্জিত হয়ে যায়, তাহলে সংবিধানের সপ্তদশ (১৭তম) সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তিত বিধান নির্ধারিত সময়ের আগেই বাতিল হয়ে যাবে।

১৬. ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দল থেকে মনোনয়ন: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, আইনসভার উভয় কক্ষে একজন করে ডেপুটি স্পিকার সরকারদলীয় সদস্য ব্যতীত অপর সদস্যদের মধ্য হতে মনোনীত করা হবে।

১৭. সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতি: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব কমিটি, প্রিভিলেজ কমিটি, অনুমিত হিসাব কমিটি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতি পদে বিরোধীদলীয় সদস্যগণ দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া, জাতীয় সংসদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে সংসদে আসনের সংখ্যানুপাতে বিরোধী দলের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হবে।

১৮. প্রতি জনশুমারি বা দশ বছর পর পর সীমানা পুনঃনির্ধারণ: প্রতি জনশুমারি বা অনধিক ১০ (দশ) বছর পরে সংসদীয় নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণের জন্য সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৯-এর দফা ১-এর (গ)-এর শেষে বর্ণিত “এবং” শব্দটির পর ‘আইনের দ্বারা নির্ধারিত একটি অস্থায়ী বিশেষায়িত কমিটি গঠনের বিধান’ যুক্ত করা হবে। সংশ্লিষ্ট জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন, ২০২১ (সর্বশেষ ২০২৫ সালে সংশোধিত)-এর ধারা ৮(৩)-এর সঙ্গে যুক্ত করে উক্ত কমিটির গঠন ও কার্যপরিধি নির্ধারণ করা হবে।

১৯. আপীল বিভাগ থেকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৫-এর বিদ্যমান ব্যবস্থা পরিবর্তন করে রাষ্ট্রপতি আপীল বিভাগের বিচারপতিদের মধ্য থেকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করবেন।

২০. আপীল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ: (১) আপীল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগদান করবেন। (২) তবে শর্ত থাকে যে, অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের অভিযোগের কারণে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৬-এর অধীন কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকলে তাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের জন্য বিবেচনা করা যাবে না।

২১. আপীল বিভাগের বিচারক সংখ্যা: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, “আপীল বিভাগের বিচারক সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রধান বিচারপতির চাহিদা মোতাবেক, সময়ে সময়ে, আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক নিয়োগ করা যাবে।”

২২. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করা হবে।

২৩বিচার বিভাগ বিকেন্দ্রীকরণ: সুপ্রীম কোর্টের বিকেন্দ্রীকরণ: রাজধানীতে সুপ্রীম কোর্টের স্থায়ী আসন থাকবে, তবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে প্রধান বিচারপতি, সময়ে সময়ে, যে সার্কিট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা করতে পারতেন তার পরিবর্তে প্রধান বিচারপতি কর্তৃক প্রতিটি বিভাগে এক বা একাধিক স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

২৪. বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ: অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে সুপ্রীম কোর্টের উপর ন্যস্ত করার জন্য সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৬ ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধন করা হবে।

২৫. স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস গঠন: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, সংবিধানের অধীনে সুপ্রীম কোর্ট ও জেলা ইউনিটের সমন্বয়ে একটি স্থায়ী সরকারি অ্যাটর্নি সার্ভিস গঠন করা হবে।

২৬. নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ: বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮(১) সংশোধনপূর্বক এরূপ যুক্ত করা হবে যে, (ক) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্ধারিত সংখ্যক নির্বাচন কমিশনারগণের সমন্বয়ে বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকবে। নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্দেশ্যে নিম্নরূপে গঠিত একটি বাছাই কমিটির মাধ্যমে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করা হবে: (১) জাতীয় সংসদের স্পিকার (যিনি এই বাছাই/Selection কমিটির প্রধান হবেন), (২) ডেপুটি স্পিকার (যিনি বিরোধী দল হতে নির্বাচিত হবেন), (৩) প্রধানমন্ত্রী, (৪) বিরোধী দলের নেতা, এবং (৫) প্রধান বিচারপতির প্রতিনিধি হিসেবে আপীল বিভাগের একজন বিচারপতি। এই বাছাই/ Selection কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারগণের নিয়োগ করার উদ্দেশ্যে বিদায়ী নির্বাচন কমিশনের প্রধান ও অন্যান্য কমিশনারগণের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ (নব্বই) দিন পূর্বে সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে (যেখানে নির্বাচন কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা-অযোগ্যতা, প্রার্থী অনুসন্ধানের পদ্ধতি, প্রাধিকার ও কর্মপদ্ধতির উল্লেখ থাকবে) ‘ইচ্ছাপত্র’ ও প্রার্থীর সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি আহ্বান করাসহ কমিটির নিজস্ব উদ্যোগে উপযুক্ত প্রার্থী অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

(খ) অনুসন্ধানে প্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের ‘জীবনবৃত্তান্ত’ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করত সর্বসম্মতিক্রমে তাদের মধ্য হতে ১ (এক) জনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্ধারিত প্রতিটি পদের বিপরীতে ১ (এক) জন করে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট প্রেরণ করবেন এবং রাষ্ট্রপতি তাদেরকে কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ (পাঁচ) বছরের জন্য নিয়োগদান করবেন।

(গ) স্পিকারের তত্ত্বাবধানে জাতীয় সংসদ সচিবালয় এই কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।

(ঘ) বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮-এর দফা (২), (৩), (৪), (৫) ও (৬) অপরিবর্তিত থাকবে।

(ঙ) অনুচ্ছেদ ১১৮(৫)-এর সাথে এরূপ যুক্ত হবে: ‘এতদ্ব্যতীত জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারগণের জবাবদিহিতার জন্য আইন প্রণয়ন ও আচরণবিধি প্রণয়ন করা হবে।’

২৭. সাংবিধানিক আইনগত ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে সংবিধান সংশোধন: বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২০(২) নিম্নরূপে প্রতিস্থাপন করা হবে: রাষ্ট্র এমন অবস্থা সৃষ্টি করবে, যেখানে সাধারণ নীতি হিসেবে কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থে সাংবিধানিক ও আইনগত ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারবেন না এবং অনুপার্জিত আয় ভোগ করতে সমর্থ হবেন না এবং যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক ও কায়িক, সকল প্রকার শ্রম সৃষ্টিধর্মী প্রয়াসের ও মানবিক ব্যক্তিত্বের পূর্ণতর অভিব্যক্তিতে পরিণত হবে।

২৮. স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচন: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

২৯. স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল সংগ্রহ: সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান স্থানীয়ভাবে নিজস্ব তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে। তবে প্রাক্কলিত তহবিল যদি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বাজেটের চেয়ে কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে সেই বাজেট আইনসভার উচ্চকক্ষে পাঠাতে হবে।

৩০. সংসদ, সংসদের কমিটি এবং সদস্যদের অধিকার, অধিকারের সীমা দায় সম্পর্কিত আইন প্রণয়ন: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭৮ (৫) সংশোধন সাপেক্ষে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সংসদের | কমিটিসমূহ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার, অধিকারের সীমা এবং দায় নির্ধারণ করা হবে।

 

আরও পড়ুন-  জাতীয় জুলাই সনদ ২০২৫

 

 

You cannot copy content of this page