AcademicBJS ExamHome

সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষার নিয়মাবলি

সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষার নিয়মাবলি

বাংলাদেশের বিচার বিভাগ দুটি স্তরে বিভক্ত। বাংলোদেশ সুপ্রিম কোর্ট নামে উচ্চ আদালত (Higher Court) এবং প্রতি জেলায় অবস্থিত অধ্বস্তন আদালত (Subordinate Court)। অধ্বস্তন আদালতে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের (BJSC) মাধ্যমে ২০০৭ সাল থেকে সহকারী জজ বা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদে বিচারক নিয়োগ করা হয়। সহকারী জজ বা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটই অধ্বস্তন আদালতে বিচারক হিসেবে যোগদানের প্রবেশনারী পদ। আমরা আজকের আলোচনায় সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষার নিয়মাবলি বিস্তারিত আলোচনা করবো।

 

১. আবেদন ও যোগ্যতার শর্তাবলি

সহকারী জজ পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীকে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের (BJSC) নির্ধারিত BJSC Form অনলাইনে সতর্কতার সাথে পূরণ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাখিল করতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে, প্রার্থীকে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি অথবা আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে। উভয় ক্ষেত্রেই, আইন বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর স্তরে অবশ্যই দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএ (ন্যূনতম ৪৫%) থাকতে হবে। যে প্রার্থীরা পরীক্ষা শেষ করেছেন কিন্তু ফলাফল প্রকাশ হয়নি, তারা আবেদন করতে পারবেন, তবে মৌখিক পরীক্ষার সময় অবশ্যই দ্বিতীয় শ্রেণি/সমমানের গ্রেড অর্জনের মূল সনদ ও নম্বরপত্র প্রদর্শন করতে হবে। বয়সসীমা অবশ্যই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তারিখে অনধিক ৩২ বৎসর হতে হবে, যা শুধুমাত্র মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা সমমানের মূল সনদপত্র দ্বারা প্রমাণিত হবে। এছাড়া, বাংলাদেশের নাগরিক নন এমন কাউকে বিবাহ বা বিবাহের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলে প্রার্থী অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা-সরকারি সংস্থায় চাকুরিরত প্রার্থীদেরকে মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে অবশ্যই নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের প্রদত্ত অনাপত্তিপত্র (NOC) জমা দিতে হবে।

 

২. কাগজপত্র দাখিল ও যোগাযোগের পদ্ধতি

প্রাথমিক পরীক্ষায় (প্রিলিমিনারি) উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীদেরকে স্বহস্তে পূরণকৃত BJSC Form II এবং প্রয়োজনীয় সত্যায়িত কাগজপত্রসহ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে BJSC সচিবালয়ে জমা দিতে হবে। কাগজপত্রের মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র ও নম্বরপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি (এসএসসি থেকে শুরু করে ক্রমানুসারে) এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফটোকপি অবশ্যই প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত হতে হবে। মৌখিক পরীক্ষার সময় সকল মূল সনদপত্র প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক। সকল প্রকার চিঠিপত্র এবং BJSC Form II ‘সচিব, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন, ১৫, কলেজ রোড, ঢাকা-১০০০’ এই ঠিকানায় পাঠাতে হবে। পরীক্ষার ফি টেলিটক মোবাইল ফোন নম্বরের মাধ্যমে জমা দিতে হবে এবং আবেদনের সময় প্রার্থীর ছবি (৩ মাসের মধ্যে তোলা) আপলোড করতে হবে। আবেদন শেষ হওয়ার পর প্রার্থীরা অনলাইনে প্রবেশপত্র প্রিন্ট করে নিতে পারবেন।

 

৩. পরীক্ষার কাঠামো ও পাশ নম্বর

সহকারী জজ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোট তিনটি ধাপ রয়েছে। প্রথম ধাপ হলো ১০০ নম্বরের প্রাথমিক পরীক্ষা (MCQ), যেখানে ৫০ নম্বর পেলে প্রার্থী উত্তীর্ণ হবেন। এই পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কর্তন করা হবে। প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা মোট ১০০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেবেন। লিখিত পরীক্ষায় আবশ্যিক সাধারণ বিষয়ে ৪০০ নম্বর, আবশ্যিক আইন বিষয়ে ৫০০ নম্বর এবং ঐচ্ছিক আইন বিষয়ে ১০০ নম্বর থাকবে। লিখিত পরীক্ষার সকল বিষয়ে গড়ে ৫০% নম্বর পেলে উত্তীর্ণ গণ্য হবেন, তবে কোনো একটি বিষয়ে ৩০% এর কম নম্বর পেলে অকৃতকার্য হবেন। প্রতিটি লিখিত পরীক্ষার সময়কাল ৩ ঘণ্টা। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জন্য ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মৌখিক পরীক্ষায় ৫০% এর কম নম্বর পেলে প্রার্থী অকৃতকার্য হবেন। মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর আইন জ্ঞান, সাধারণ জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা, বাচনভঙ্গি ও ব্যক্তিত্বের অন্যান্য দিক মূল্যায়ন করা হবে।

 

৪. স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সতর্কতা

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় কৃতকার্য প্রার্থীদেরকে পরবর্তীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কর্তৃক গঠিত মেডিকেল বোর্ডের নিকট স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। শারীরিক মাপের ক্ষেত্রে পুরুষ প্রার্থীর ন্যূনতম উচ্চতা ১.৫২৪ মিটার ও ওজন ৪৫ কেজি, এবং মহিলা প্রার্থীর ন্যূনতম উচ্চতা ১.৪৭৩ মিটার ও ওজন ৪০ কেজি হতে হবে। এই মানদণ্ডে উত্তীর্ণ না হলে প্রার্থীরা নিয়োগের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সফল হওয়া সত্ত্বেও তা নিয়োগের নিশ্চয়তা দেয় না। সর্বশেষে, আবেদনপত্রে মিথ্যা তথ্য দাখিল, তথ্য গোপন, জাল সনদ দাখিল বা পরীক্ষায় অসদাচরণ প্রমাণিত হলে প্রার্থীকে বর্তমান পরীক্ষাসহ পরবর্তী এক বা একাধিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অযোগ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করাসহ ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হতে পারে।

 

৫. সিলেবাস ও পড়াশোনা

ক. সাধারণ আবশ্যিক বিষয়ের সিলেবাস

খ. আবশ্যিক আইনের বিষয়ের সিলেবাস

গ. ঐচ্ছিক আইনের বিষয়ের সিলেবাস

 

 

 

You cannot copy content of this page