মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে সম্পত্তি বণ্টনের আদ্যোপান্ত
ফারায়েজ শব্দটি আরবি। এর অর্থ নির্ধারিত অংশ, নির্দিষ্ট ভাগ, উত্তরাধিকার শাস্ত্র। ফারায়েজ শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করে নবী কারিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা ফারায়েজ শিক্ষা করো এবং জনগণকে তা শিক্ষা দাও। কেননা এটা কল্যাণমূলক জ্ঞানের অর্ধেক।’ সূরা নিসা’র ১১ ও ১২ নম্বর আয়াতে বণ্টনের যে নীতি আছে, তার দ্বারাই মূলত মুসলিম উত্তরাধিকার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। এছাড়া সুন্নাহ ও ইজমার ওপর ভিত্তি করে কিছু বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লেখনীতে আমরা ফারায়েজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবো –
ইসলামী শরীয়তে মৃত ব্যক্তির সকল ওয়ারিশদেরকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়:
(ক) নির্ধারিত অংশের হকদার (Quranic Sharers)
(খ) অবশিষ্টভোগী (Residuary)
(গ) মৃতের অন্যান্য দূরবর্তী আত্মীয় (Distant Kindred)
নিচে ধারাবাহিকভাবে এই তিন শ্রেণী ওয়ারিশদের পরিচয় এবং তাদের মাঝে উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনের প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হল:
Quranic Sharers (কোরআন নির্ধারিত অংশীদার): কোরআন নির্ধারিত অংশীদার শ্রেণিতে রয়েছে ১২ জন ওয়ারিশ, মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে যাদের অংশ নির্ধারিত রয়েছে। এ শ্রেণির ওয়ারিশরা হচ্ছেন- স্বামী, স্ত্রী, বাবা, মা, দাদা, দাদী, বোন, কন্যা, ছেলের কন্যা, বৈমাত্রেয় বোন, বৈপিত্রেয় ভাই ও বৈপিত্রেয় বোন।
তাদের অংশের পরিমাণ নিম্নরূপ:
১. স্বামীঃ স্ত্রীর মৃত্যুর পর স্বামীর দুই অবস্থা হতে পারে:
(ক) যদি স্ত্রীর পক্ষ থেকে তার কোন ঔরষজাত সন্তান না থাকে তাহলে সম্পত্তির ১/২ অংশ (অর্ধেক) পাবেন।
(খ) আর যদি ঔরষজাত কোন সন্তান থাকে তাহলে ১/৪ অংশ (এক চতুর্থাংশ) পাবেন।
২. স্ত্রীঃ স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর দুই ধরনের অবস্থা হতে পারে:
(ক) যদি মৃত স্বামীর কোন সন্তান না থাকে তাহলে ১/৪ অংশ (এক চতুর্থাংশ) পাবেন।
(খ) আর যদি কোন সন্তান থাকে তাহলে ১/৮ অংশ (এক অষ্টমাংশ) পাবেন।
উল্লেখ্য যে, একাধিক স্ত্রী জীবিত থাকলেও সবাই মিলে এক স্ত্রীর প্রাপ্য অংশ পাবেন এবং এক স্ত্রীর প্রাপ্য অংশ সবাই নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিবেন।
৩.পিতাঃ সন্তান মারা গেলে পিতার তিন অবস্থা:
(ক) যদি মৃত সন্তানের কোন পুত্র (আপন পুত্র বা পুত্রের পুত্র- এভাবে অধস্তন কোন পুরুষ) থাকে তাহলে পিতা সম্পত্তির ১/৬ অংশ (এক ষষ্ঠাংশ) পাবেন।
(খ) যদি মৃত সন্তানের কোন পুত্র (আপন পুত্র বা পুত্রের পুত্র- এভাবে অধস্তন কোন পুরুষ) না থাকে কিন্তু তার কোন কন্যা (আপন কন্যা বা কন্যার কন্যা- এভাবে অধস্তন কোন নারী) থাকে তাহলে পিতা ১/৬ + R পাবে।
(গ) যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তানই না থাকে (চাই তা যত অধস্তনই হোক না কেন) তাহলে পিতা শুধুমাত্র রেসিডুয়ারি হিসেবে অবশিষ্ট সকল অংশ পাবেন।
৪. দাদাঃ যদি পিতা জীবিত না থাকে তাহলে পিতার অংশ পিতার পিতা বা তার পিতা পাবে। যদি মৃত ব্যক্তির পিতা জীবিত থাকে তাহলে দাদা বঞ্চিত হবে। তবে মৃত ব্যক্তির পিতা যদি জীবিত না থাকে তাহলেই শুধুমাত্র দাদা মিরাসের সম্পত্তি পাবে। আর দাদার মিরাসের সম্পত্তির ক্ষেত্রে পিতার ন্যায় অর্থাৎ পিতা যে পরিমান সম্পত্তি পেত দাদা সে অংশ পাবে।
৫. মাতাঃ সন্তান মারা গেলে মায়ের তিন অবস্থা হতে পারে:
(ক) যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান থাকে কিংবা একাধিক ভাইবোন থাকে তাহলে মা সমুদয় সম্পত্তির ১/৬ অংশ (এক ষষ্ঠাংশ) পাবেন।
(খ) যদি মৃত ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রীর সাথে পিতা মাতা উভয়ে থাকে তাহলে সম্পত্তি থেকে স্বামী বা স্ত্রীর অংশ দেয়ার পর মা বাকি সম্পত্তির ১/৩ অংশ (এক তৃতীয়াংশ) পাবেন।
(গ) যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান না থাকে বা ভাইবোন ২ জনের কম থাকে এবং স্ত্রী কিংবা স্বামী জীবিত না থাকে তাহলে মা সমুদয় সম্পত্তির ১/৩ অংশ (এক তৃতীয়াংশ) পাবেন।
৬. কন্যাঃ বাবার মৃত্যুর পর কন্যার তিন অবস্থা হতে পারে:
(ক) যদি শুধুমাত্র একজন কন্যা থাকে এবং কোন পুত্র না থাকে তাহলে সে সম্পত্তির ১/২ অংশ (অর্ধেক) পাবে।
(খ) আর কন্যা যদি একাধিক থাকে এবং কোন পুত্র না থাকে তাহলে সবাই ২/৩ অংশ (দুই তৃতীয়াংশ) পাবে।
(গ) আর যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র এবং কন্যা একসাথে থাকে তাহলে পুত্র-কন্যা ২:১ অনুপাতে পাবে।
৭. পুত্রের কন্যা: পুত্রের কন্যা দ্বারা উদ্দেশ্য হল আপন পুত্রের কন্যা, পৌত্রের কন্যা, প্রপৌত্রের কন্যা এভাবে অধস্তন সকল পুত্রের কন্যা। তারা একে অপরের অবর্তমানে দাদার সম্পত্তি থেকে মিরাস লাভ করবে। এদের মিরাস পাওয়ার জন্য শর্ত হল মৃত ব্যক্তির কোন পুত্র কিংবা একাধিক কন্যা জীবিত না থাকা। পুত্রের কন্যাদের ছয়টি অবস্থা হতে পারে:
(ক) যদি মৃত ব্যক্তির কোন পুত্র-কন্যা না থাকে এবং শুধুমাত্র একজন পৌত্রী থাকে তাহলে সে সম্পত্তির ১/২ অংশ (অর্ধেক) পাবে।
(খ) আর যদি উল্লেখিত অবস্থায় মৃত ব্যক্তির একাধিক পৌত্রী থাকে তাহলে সবাই মিলে সম্পত্তির ২/৩ অংশ (দুই তৃতীয়াংশ) পাবে।
(গ) আর যদি উল্লেখিত অবস্থায় মৃত ব্যক্তির কোন পৌত্র থাকে এবং সাথে এক বা একাধিক পৌত্রী থাকে তাহলে পৌত্রীগণ আসাবা হয়ে যাবে এবং আসহাবুল ফুরুযকে তাদের অংশ দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে তা পৌত্র এবং পৌত্রীগণ ১:২ অনুপাতে পাবে।
(ঘ) যদি মৃত্যু ব্যক্তির কোন পুত্র না থাকে কিন্তু একজন মাত্র কন্যা থাকে এবং সাথে এক বা একাধিক পৌত্রী থাকে তাহলে পৌত্রীগণ সবাই মিলে সম্পত্তির ১/৬ অংশ (এক ষষ্ঠাংশ) পাবে।
(ঙ) আর যদি উল্লেখিত অবস্থায় মৃত ব্যক্তির একাধিক কন্যা থাকে তাহলে পৌত্রীগণ বঞ্ছিত হবে।
(চ) আর যদি মৃত্যু ব্যক্তির কোন পুত্র থাকে তাহলেও পৌত্রীণন বঞ্ছিত হবে।
৮. দাদী বা নানীঃ দাদী ও নানীর তিন অবস্থা হতে পারে:
(ক) যদি মৃত ব্যক্তির পিতা-মাতা, দাদা বা ঊর্ধ্বতন কেউ যদি জীবিত না থাকে তাহলে দাদী এবং নানী উভয়ে সম্পত্তির ১/৬ অংশ (এক ষষ্ঠাংশ) পাবে।
(খ) যদি মৃত ব্যক্তির মা জীবিত থাকে তাহলে দাদী এবং নানী উভয়ে বঞ্চিত হবে।
(গ) আর যদি মৃত ব্যক্তির পিতা জীবিত থাকে তাহলে দাদী বঞ্চিত হবে কিন্তু নানী যথারীতি ১/৬ অংশ (এক ষষ্ঠাংশ) পাবে।
৯. বৈপিত্রেয় ভাইঃ বেপিত্রেয় ভাই দ্বারা উদ্দেশ্য হল মৃত ব্যক্তির মায়ের গর্ভজাত ভাই কিন্তু পিতা ভিন্ন। বৈপিত্রেয় ভাইয়ের তিন অবস্থা হতে পারে:
(ক) যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র, কন্যা, নাতি-নাতনী বা অধস্তন কেউ কিংবা পিতা, পিতামহ, প্রপিতামহ বা ঊর্ধ্বতন কোন পুরষ না থাকে এবং শুধুমাত্র একজন বৈপিত্রেয় ভাই থাকে তাহলে সে সম্পত্তির ১/৬ অংশ (এক ষষ্ঠাংশ) পাবে।
(খ) আর যদি উল্লেখিত অবস্থায় মৃত ব্যক্তির একাধিক বৈপিত্রেয় ভাই থাকে তাহলে সবাই মিলে সম্পত্তির ১/৩ অংশ (এক তৃতীয়াংশ) পাবে।
(গ) আর যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র, কন্যা, নাতি-নাতনী বা অধস্তন কেউ কিংবা পিতা, পিতামহ, প্রপিতামহ বা ঊর্ধ্বতন কেউ জীবিত থাকে তাহলে বৈপিত্রেয় ভাইয়েরা বঞ্চিত হবে।
১১. বৈপিত্রেয় বোন : বৈপিত্রেয় বোন বলতে এমন বোনকে বোঝায় যা মৃত ব্যক্তির সহাদোরা অর্থাৎ একই মায়ের সন্তান কিন্তু বাবা ভিন্ন। বৈপিত্রেয় বোন মিরাসের সম্পত্তি লাভের জন্য শর্ত হল মৃত ব্যক্তির পুত্র, পুত্রের পুত্র কিংবা কন্যা, কন্যার কন্যা- এভাবে অধস্তন কেউ কিংবা পিতা, দাদা এভাবে ঊর্ধ্বতন কেউ জীবিত না থাকা। বৈপিত্রেয় বোনের তিন অবস্থা হতে পারে:
(ক) যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র-কন্যা কিংবা অধস্তন কেউ অথবা পিতা-দাদা ঊর্ধ্বতন কেউ না থাকে আর বৈপিত্রেয় বোন শুধুমাত্র একজন থাকে তাহলে সম্পত্তির ১/৬ অংশ (এক ষষ্ঠাংশ) পাবে।
(খ) আর উল্লেখিত অবস্থায় যদি বৈপিত্রেয় বোন একাধিক থাকলে তাহলে সবাই মিলে সম্পত্তির ১/৩ অংশ (এক তৃতীয়াংশ) পাবে।
(গ) যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র-কন্যা বা অধস্তন কেউ এবং পিতা-দাদা বা ঊর্ধ্বতন কেউ জীবিত তাহলে বৈপিত্রেয় বোনেরা বঞ্ছিত হবে।
১২. আপন বোনঃ আপন বোনের পাঁচ অবস্থা হতে পারে:
(ক) যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র-কন্যা, পিতা-ভাই কেউ জীবিত না থাকে এবং আপন বোন শুধুমাত্র একজন থাকে তাহলে বোন আসহাবুল ফুরুয হিসেবে সম্পত্তির ১/২ অংশ (অর্ধেক) পাবে।
(খ) যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র-কন্যা, পিতা-ভাই কেউ জীবিত না থাকে এবং আপন বোন একের অধিক থাকে তাহলে তারা সবাই মিলে সম্পত্তির থাকলে ২/৩ অংশ (দুই তৃতীয়াংশ) পাবে।
(গ) যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র-কন্যা এবং পিতা জীবিত না থাকে এবং আপন বোনের সাথে আপন ভাই জীবিত থাকে তাহলে বোনেরা ভাইয়ের কারণে আসাবা হয়ে যাবে। তখন আসহাবুল ফুরুযের অংশ বণ্টনের পর অবশিষ্ট অংশ আসবা হিসেবে ভাই-বোন ২:১ অনুপাতে পাবে।
১৩. বৈমাত্রেয় বোনঃ বৈমাত্রেয় বোন বলা হয় যাদের বাবা এক কিন্তু মা ভিন্ন। বৈমাত্রে বোনের সাত অবস্থা হতে পারে:
(ক) যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র, পুত্রের পুত্র বা অধস্তন কেউ, পিতা, দাদা বা ঊর্ধ্বতন কেউ, আপন ভাই, একাধিক আপন বোন কিংবা একজন আপন বোন; সাথে কন্যা, কন্যার কন্যা বা অধস্তন কেউ যদি জীবিত না থাকে আর বৈমাত্রিয় বোন শুধুমাত্র একজন থাকে তাহলে সে আসহাবুল ফুরুয হিসেবে সম্পত্তির ১/২ অংশ (অর্ধেক) পাবে।
(খ) আর যদি উল্লেখিত অবস্থায় বৈমাত্রেয় বোন একাধিক থাকে তাহলে তারা সবাই মিলে সম্পত্তির ২/৩ অংশ (দুই তৃতীয়াংশ) পাবে।
(গ) আর যদি উল্লেখিত অবস্থায় মৃত ব্যক্তির একজন মাত্র আপন বোন থাকে তাহলে বৈমাত্রেয় বোন ১/৬ অংশ (এক ষষ্ঠাংশ) পাবে।
(ঘ) আর যদি উল্লেখিত অবস্থায় মৃত ব্যক্তির একাধিক আপন বোন থাকে তাহলে বৈমাত্রেয় বোনেরা বঞ্ছিত হবে।
(ঙ) আর যদি উল্লেখিত অবস্থায় মৃত ব্যক্তির একাধিক আপন বোন থাকে এবং বৈমাত্রেয় বোনের সাথে বৈমাত্রেয় ভাইও থাকে তাহলে ভাইয়ের কারণে বোনেরা আসাবা হয়ে যাবে। তখন আসহাবুল ফুরুযের অংশ বণ্টনের পর অবশিষ্ট যা থাকবে তা বৈমাত্রেয় ভাই-বোন ২:১ অনুপাতে পাবে।
(চ) যদি উল্লেখিত অবস্থায় মৃত ব্যক্তির কোন কন্যা, কন্যার কন্যা বা অধস্তন কেউ থাকে এবং আপন বোন না থাকে তাহলে বৈমাত্রিয় বোন আসাবা হয়ে যাবে। তখন আসহাবুল ফুরুযকে দেয়ারপর যা অবশিষ্ট থাকবে তার পুরোটাই বৈমাত্রেয় বোন আসাবা হিসেবে পাবে।
(ছ) আর যদি উল্লেখিত অবস্থায় মৃত ব্যক্তির কোন পুরুষ ওয়ারিশ জীবিত থাকে তাহলে বৈমাত্রিয় বোনেরা বঞ্ছিত হবে।
Residuary (অবশিষ্টাংশভোগী) : অবশিষ্টাংশভোগী শ্রেণিতে আছেন আসাবা বা অবশিষ্টভোগী। অবশিষ্টভোগী হয়ে থাকে –
১. মৃত ব্যক্তির নিজের সন্তান তথা ছেলে ও কন্যা।
২. পূর্ববর্তী বংশধর যথা বাবা, দাদা।
৩. বাবার বংশধর তথা ভাই, বোন, বৈমাত্রেয় বোন, বৈমাত্রেয় ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বৈমাত্রেয় ভাইয়ের ছেলে, বৈমাত্রেয় ভাইয়ের ছেলের ছেলে, ভাইয়ের ছেলের ছেলে।
৪. দাদার বংশধর তথা চাচা, বৈমাত্রেয় চাচা, চাচার ছেলে, বৈমাত্রেয় চাচার ছেলে, চাচার ছেলের ছেলে, বৈমাত্রেয় চাচার ছেলের ছেলে, আরও দূরবর্তী বংশধর। এ তালিকা থেকে বুঝা যায় স্থান ভেদে একই ধরনের ওয়ারিশ কখনো শেয়ারার বা রেসিডুয়ারি হতে পারে।
আবার যদি কোনো উত্তরাধিকার সংক্রান্ত সমস্যায় দুইজন রেসিডুয়ারি থাকে তাহলে এদের মধ্যে একজন উত্তরাধিকার পাবে এবং আরেকজন বাদ যাবে নিম্নোক্ত তিনটি উপাদান বিবেচনার মাধ্যমে:
ক. Class (শ্রেণী): কোরনির্ধারিত, অবশিষ্টাংশভোগী এবং দূরবর্তী আত্মীয়
খ. Degree (স্তর / দূরত্ব / প্রজন্ম): মৃতের সাথের ওয়ারিশের প্রজন্মের স্তর / দূরত্ব।
গ. Blood (রক্ত): মৃতের সাথে ওয়ারিশের রক্তের সম্পর্ক
Distant Kindred (দূরবর্তী আত্মীয়স্বজন): প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর অংশীদার না থাকলে এই শ্রেণীর আত্মীয়রা পাবে। উল্লেখ্য: শুধু স্বামী/ স্ত্রী আছে কিন্তু অন্যকোন কোরআন নির্ধারিত অংশীদার বা রেসিডুয়ারি না থাকে তাহলে দূরবর্তী আত্মীয়রা সম্পত্তি পাবে।
Doctrine of Representation (প্রতিনিধিত্বমূলক নীতি :
ব্যক্তি বেঁচে থাকতে পুত্র / কন্যা মারা গেলে সেই পুত্র/ কন্যার ছেলে-মেয়েরা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে পুত্র/কন্যার প্রতিনিধি হিসেবে সম্পত্তি পেয়ে থাকে। পুত্র/ কন্যার ছেলেমেয়েরা সেইটুকু সম্পত্তি পেয়ে থাকে, যেইটুকু সম্পত্তি তাদের পিতা / মাতা বেঁচে থাকলে পেত। এই নীতিকে প্রতিনিধিত্বের নীতি বা Doctrine of Representation বলে। মুসলিম হানাফী আইনে প্রতিনিধিত্বের নীতি স্বীকার করে না। কিন্তু ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের ৪ ধারায় এই নীতিকে স্বীকার করা হয়েছে। তাদের পিতা/মাতা জীবিত থাকলে যেসকল আত্মীয়দের সম্পত্তি প্রাপ্তি থেকে Exclude করতো, তারাও ঠিক একইভাবে সেইসব আত্মীয়দের সম্পত্তি প্রাপ্তি থেকে Exclude করবে।
*লেখক: নাবিদ মোস্তফা জাসিম: নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষার্থী; কন্ট্রিবিউটর, জুরিস্টিকো।
আরও পড়ুন- ওয়াকফ কাকে বলে?
